×

দুর্গা প্রতিমা তৈরির সময় কেন পতিতালয়ের মাটি ব্যবহৃত হয়? ৯৯% মানুষ বলতে পারেন না

সামনেই দুর্গাপুজো। মাতৃবন্দনার সেজে উঠেছে গোটা তিলোত্তমা। সকলেই সেজে উঠবেন নতুন সাজে। আজ ছিল মহালয়া, পিতৃ পক্ষের শেষ এবং দেবী পক্ষের সূচনা। দু বছর করোনা কাটিয়ে ফের পৃথিবী আস্তে আস্তে সুস্থ হচ্ছে। বাঙালির কাছেও গত দু’বছরে দুর্গাপুজো তেমন আনন্দময় হয়ে ওঠেনি।

 

করোনার থাবা থেকে বাঁচতে ঘরবন্দী হয়েই পুজোর দিনগুলি কেটেছিল। তবে এবার সবটাই স্বাভাবিক। ইতিমধ্যেই পুজোর রূপচর্চা থেকে ফ্যাশন সবটা নিয়েই জল্পনা-কল্পনা শেষ। এখন শুধু দিনগোনা। তবে পুজো আসছে আসছে এটাই যেন মজা, আসলেই তো মাত্র চারদিনেই শেষ। প্রতিমা নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে। তবে কথিত আছে, দুর্গা পুজোর সময় প্রতিমা নির্মাণ করতে যে পতিতালয়ের (Red light area) মাটি লাগে এই কথা মোটামুটি সবাই জানেন। কিন্তু দেবী দুর্গার মূর্তি তৈরিতে দরকার হয় এই মাটি তা কী জানা আছে?

দেবী দুর্গার মোট ৯টি কন্যা রূপ রয়েছে। সেগুলি হল – নর্তকী বা অভিনেত্রী, কাপালিক, ধোপানী, নাপিতানী, ব্রাহ্মণী, শূদ্রাণী, গোয়ালিনী, মালিনী ও পতিতা। যেহেতু মায়ের নবম রূপটি পতিতা রূপ, তাই মায়ের মূর্তি নির্মাণের জন্য পতিতালয় থেকে মাটি আনা হয়। প্রতি বছর দেবীর মূর্তি গড়ার জন্য এই মাটি আনা অত্যন্ত জরুরি। যারা সমাজের চোখে ‘অশুচি’, তাঁদের বাড়ির মাটি না ছাড়া দেবী দুর্গার মূর্তি স্থাপন হবেনা। এটাই বাস্তব।

আসলে, মায়ের কাছে সবাই সমান। জাত-পাত ধর্ম কোনো কিছুরই ভেদাভেদ নেই। পতিতাদের কাছেই বরং মা বেশ মর্যাদাসম্পন্নভাবে পূজিত হবেন। শাস্ত্রেও লেখা রয়েছে এই কথা। প্রতিমা তৈরির সময় কাঠামোর গায়ে লেপতেই হবে পতিতালয়ের মাটি। সম্পূর্ণভাবে না হলেও আংশিকভাবে এই মাটি থাকতেই হবে। এই বিষয়ে পুরাণেও একটি কাহিনী রয়েছে, ঋষি বিশ্বামিত্র যখন ইন্দ্রত্ব লাভের জন্য কঠোর তপস্যায় মত্ত ছিলেন, তখন তাঁর ধ্যান ভঙ্গ করার জন্য কয়েকজন সুন্দরী অপ্সরাদের পাঠানো হয়েছিল তাঁর কাছে। সেখানেই একজষ অপ্সরা তাঁর ধ্যান ভঙ্গ করতে সক্ষম হয়েছিল। এরপর থেকেই মা দুর্গার নবম রূপ হয় পতিতা।

Related Articles

Back to top button